এফিলিয়েট মার্কেটিং কি? এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়

You are currently viewing এফিলিয়েট মার্কেটিং কি? এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়

এফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং এর একটি অংশ। যেখানে বিভিন্ন কোম্পানি তাদের পণ্য অনলাইনে থাকা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাদের ব্রান্ডের প্রচার এবং পাব্লিসিটি করে থাকে। এখানে কোম্পানিরা একাধিক পণ্য বিক্রি করতে পারে এবং থার্ডপার্টি যারা পণ্যের প্রমোশন করার মাধ্যমে বিক্রি করে দেয় তারা নির্দিষ্ট একটি কমিশন লাভ করে। অনলাইনের মাধ্যমে কোন পণ্য নির্ধারিত ক্রেতার হাতে সহজে পৌছানোর জন্য এবং একই সাথে একাধিক পণ্য বিক্রি করা যায় এজন্য মূলত এফিলিয়েট সিস্টেম চালু হয়েছে। অনলাইনে টাকা আয় করার যতগুলো উপায় আছে তার মধ্যে এফিলিয়েট মার্কেটিং অনেক জনপ্রিয়।

অনেকে এফিলিয়েট মার্কেটিং বিষয়টাকে অনেক জটিল ভাবে নিয়ে থাকে। আসলে বিষয়টা মোটেও জটিল কিছু না। আপনার যদি একটি ব্লগ ওয়েবসাইট থাকে অথবা একটি ফেসবুক পেজ থাকে অথবা একটি ইউটিউব চ্যানেল থাকে তাহলেই আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে পারেন। বিভিন্ন কোম্পানির এফিলিয়েট প্রগ্রামে অংশগ্রহনের মাধ্যমে তাদের কোম্পানির পণ্য প্রমোট করে বিক্রি করে দিবেন।




কিন্তু বিক্রি করেন দিবেন বিষয়টা যত সহজে বলে দিলাম, বিষয়টা আসলে ততটা সহজ না। এলেন, দেখলেন আর জয় করে নিলেন বিষয়টা আসলে মোটেও এমন না। আসলে পৃথিবীতে কোন কাজই সহজ না। কোন কিছুই সহজে পাওয়া যায় না। তেমনি এফিলিয়েট মার্কেটিং করে সাফল্য পেতে হলেও আপনাকে অনেক অনেক পরিশ্রম করতে হবে। সঠিক পথ অবলম্বন করে মার্কেটিং করতে হবে। তাহলে আপনার সাফল্য কেউ আটকাতে পারবে না।

এফিলিয়েট মার্কেটিং নিয়ে যদি আপনার ইন্টারেস্ট থেকে থাকে তাহলে আপনি ঠিক জায়গায় এসেছেন। কারণ আজকের আর্টিকেলে আমি এফিলিয়েট মার্কেটিং কি? এফিলিয়েট মার্কেটিং কেন করবেন? কিভাবে এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করবেন? এফিলিয়েট মার্কেটিং করে কত টাকা আয় করা যায়? ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। আশা করছি পুরো আর্টিকেল জুড়ে আপনি আমার সাথেই থাকবেন। তাহলে কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করা যাক।

এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে হলে আমাদের আগে বোঝা দরকার মার্কেটিং কি?

মার্কেটিং কি? এফিলিয়েট মার্কেটিং বাংলাদেশ

মার্কেটিং হলো কোন পণ্যের প্রচার করা, ঐ পণ্যের গুণাগুণ মানুষকে জানানো এবং ঐ পণ্যটি মানুষকে ক্রয় করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা। তবে মার্কেটিং বিষটাকে আপনি প্রথমেই অনলাইনের সাথে গুলিয়ে ফেলবেন না। ধরেন গলির মোড়ে অথবা এলাকার বাজারে আপনার একটি দোকান আছে। এখন আপনার ঐ দোকানের পণ্য আপনি কিভাবে মার্কেটিং করবেন?

  •  আপনি এলাকায় মাইকিং করতে পারেন।
  • লিফলেট বিলি করতে পারেন।
  • পোস্টারিং করতে পারেন।
  • পণ্যের প্রাইস কিছু ডিস্কাউন্ট দেওয়ার মাধ্যমে ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন।

আবার আপনি টিভি, রেডিও অথবা অনলাইনে বিভিন্ন মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে মার্কেটিং করতে পারবেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং কি?

এফিলিয়েট মার্কেটিং হচ্ছে অনলাইনের মাধ্যমে পণ্য বাজারজাত করণের একটি উপায়। আরো সহজ ভাবে বললে এভাবে বলা যায় – অনালাইনে পণ্য কেনাবেচার অনেক প্রতিষ্ঠান আছে, তাদের পণ্য অনলাইনের মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছে প্রচার করে বিক্রি করার মাধ্যমে বিক্রিত পণ্যের উপর নির্দিষ্ট হারে কমিশন লাভ করাই হচ্ছে এফিলিয়েট মার্কেটিং।

এর মানে হলো – এফিলিয়েট প্রগ্রাম আছে এমন কোম্পানির পণ্যের লিঙ্ক শেয়ারের মাধ্যমে তাদের পণ্য বিক্রি করে দিবেন। দিন শেষে তারা আপনাকে বিক্রিত পণ্যের উপর নির্ধারিত হারে কমিশন দেবে। কোম্পানিগুলো একা একা পণ্য বিক্রি না করে এফিলিয়েট মার্কেটার দ্বারা পণ্য বিক্রি করায় এবং এফিলিয়েট মার্কেটাররা অন্যের পণ্য বিক্রি করে কমিশন লাভ করে এটাই হচ্ছে এফিলিয়েট মার্কেটের মূল কথা।

এখন আপনার মনে হয়তো বিভিন্ন ধরণের প্রশ্ন জাগতে পারে। আমি কিভাবে ঐ সকল কোম্পানির পণ্য হাতে পাবো? উত্তর হলো – আপনাকে কোন পণ্য হাতে পেতে হবে না এবং তাদের কোম্পানিতেও আপনাকে সরাসরি যেতে হবে না। আপনি কেবল তাদের কোম্পানির ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করবেন। তাহলে ঐ ওয়েবসাইট থেকে প্রত্যেকটি পণ্যের জন্য সম্পূর্ণ ইউনিক একটি ইউআরএল দেওয়া হবে। তারপরে আপনার কাজ হবে ঐ URL সম্ভাব্য ক্রেতার কাছে পৌছানো। ক্রেতারা আপনার লিঙ্ক ক্লিক করে পণ্য ক্রয় করলেই আপনি কমিশন পাবেন। আপনি যত বেশি সম্ভাব্য ক্রেতার কাছে পৌছাতে পারবেন তত বেশি বিক্রির সম্ভাবনা বাড়বে। আর যত বেশি বিক্রি হবে তত বেশি কমিশন লাভ করতে পারবেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং যেভাবে শুরু করবেন

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর কাজই হচ্ছে পণ্যের প্রচার ও পাব্লিসিটি করে এবং ঐ পণ্যের গুণগান গেয়ে ক্রেতার কাছে পণ্য বিক্রয় করা। আপনি এই কাজটি কিভাবে করতে পারেন? উত্তর হলো –  এই কাজ করার বিভিন্ন উপায় আছে। তবে উপায় বলার আগে আমি ছোট একটি উধাহরণ দিই, গ্রামের হাটে বাজারে অথবা শহরে রাস্তার ধারে অনেক লোক জড়ো/ মজমা করে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করা হয়। গ্রাম্য ভাষায় এদেরকে ক্যানভাসার বলা হয়। এরা প্রথমে কি করে? বিভিন্ন গান বাজনা, বিভিন্ন যাদু খেলা ইত্যাদির দেখানোর মাধ্যমে লোক জড়ো করে। লোক জড়ো হয়ে গেলে তার পর কৌশলে তাদের পণ্যের গুণগান গাওয়া শুরু করে এবং উপস্থিত জনতার মাঝে তাদের পণ্য বিক্রি করে।

আপনাকে ঠিক একই সিস্টেমে কাজ করতে হবে। না, না ভয় পাবার কারণ নাই। আপনাকে ওভাবে গ্রানে গঞ্জে ঘুরে ঘুরে পণ্য বিক্রি করেতে হবে না। আপনি ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে এই কাজগুলো করতে পারবেন। এফিলিয়েট মার্কেটিং করার বিভিন্ন উপায় আছে। আমি এখানে কয়েকটি উপায় উল্লেখ করছি।

ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

আপনার যদি একটি ইউটিউব চ্যানেল থাকে তাহলেও আপনি এফিলিয়েট মার্কিটিং এর কাজ করতে পারবেন। যেই পণ্যের এফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন সেই পণ্যের বিস্তারিত গুণাগুণ এবং পণ্যটি ব্যবহারে সুবিধা ইত্যাদি নিয়ে ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবে আপলোড করে দিন এবং ইউটিউবের ডিস্ক্রিপশন বক্সে উক্ত পণ্যের এফিলিয়েট লিঙ্ক যুক্ত করে দিন। লোকেরা আপনার ভিডিও দেখে পণ্য সম্পর্কে জানতে পারবে এবং যার প্রয়োজন হয় সে কিনে নিতে নিবে।

কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল খুলবেন তা জানতে পড়ুন…

ফেসবুকে পেজের নাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

আপনার যদি একটি ফেসবুক পেজ থাকে তাহলেও একই উয়ায়ে এই কাজটি করতে পারবেন। ফেসবুক পেজে আর্টিকেল লিখবেন এবং পণ্যের এফিলিয়েট লিঙ্ক শেয়ার করবেন। লোকেরা আর্টিকেল পড়বে এবং যা দরকার সে লিঙ্ক ক্লিক করে পণ্য কিনে নিবে।

নিজের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

আপনার যদি একটি ব্লগ টাইপ ওয়েবসাইট থাকে তাহলে আপনার ওয়েবসাইটে বিভিন্ন কোম্পানির এফিলিয়েট লিঙ্ক শেয়ার করার মাধ্যমে এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারেন। আপনি যে কোম্পানির পণ্য মার্কেটিং করবেন সেই কোম্পানির পণ্যের গুণাগুণ নিয়ে ব্লগ লিখবেন। লোকেরা  ব্লগ পড়ে সেই পণ্য সম্পর্কে জানতে পারবে এবং যার প্রয়োজন সে কিনে নিবে।

এবং এটাই সবচে ভাল উপায় নিজের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এফিলিয়েট মার্কেটিং করা। ওয়েবসাইট তৈরি করা এখন কঠিন কিছু না। চেষ্টা করলে এই কাজটি আপনি নিজে নিজেও করতে পারবেন। ওয়েবসাইট বানাতে খুব বেশি টাকাও খরচ করতে হয় না।

এফিলিয়েট ওয়েবসাইট বানাতে পড়ুন…

এছাড়াও গুগল ব্লগারের মাধ্যমে ফ্রিতে ওয়েবসাইট বান্তে পড়ুন…

প্রথমে একটি ওয়েবসাইট বানান। তারপর কোন ওয়েবসাইট এবং কি কি প্রডাক্ট নিয়ে কাজ করবেন সেই প্রডাক্ট নিয়ে আর্টিকেল লিখতে থাকুন। আর্টিকেল যথাযথ ভাবে এসইও করুন। এভাবে করতে করতে আপনার ওয়েবসাইট এক সময় সার্চ ইঞ্জিন র‍্যাংক করবে এবং প্রচুর ভিজিটর আসতে শুরু করবে। এবং তাদের মধ্য থেকে কেউ আপনার ক্রেতা হবে।

প্রসেস এটুকুই। তবে একটি কথা অবশ্যই আপনাকে মনে রাখতে হবে, আপনি ইউটিউব চ্যানেল, ফেসবুক পেজ অথবা ওয়েবসাইট যেভাবেই মার্কেটিং করেন না কেন আপনার প্রচুর পরিমানে ট্রাফিক থাকতে হবে। ট্রাফিক ছাড়া আপনি কোন প্লাটফর্মেই সফল হতে পারবেন না।

ওয়েবসাইটে ভিজিটর বাড়াতে পড়ুন…

মোট কথা হলো আপনার জনপ্রিয়তা বাড়াতে হবে। অনলাইনে যে সব মাধ্যমে আপনি কাজ করবে সেখানে আপনার পরিচিতি বাড়াতে হবে এবং মানুষকে হেল্প করার মানসিকতা থাকতে হবে। তাহলে আসতে আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং করে সফলতা অর্জন করতে পারবেন।

এফিলিয়েট মার্কেটিং যে কারণে করবেন

গুগলে অনলাইন আয় নিয়ে প্রতিদিন প্রচুর পরিমানে সার্চ করা হয়। এ থেকেই বোঝা যায় অনলাইনে থেকে আয় করা দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। অনলাইনে ঘরে বসে ইনকাম করা যায়, আনিলিমিটেড ইনকাম করা যায়, নিজের ইচ্ছা মত সময়ে কাজ করা যায় ইত্যাদি কারণে অনলাইনে ইনকাম এখন একটি স্মার্ট পেশায় পরিণত হয়েছে। অনেকেই এখন এ পেশার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করছে।

অনেকেই জেনে নিতে চাচ্ছে কি কি উপায়ে অনলাইনে থেকে আয় করা যায়? অনলাইন থেকে আয়ের বিভিন্ন উপায় আছে। তার মধ্যে এফিলিয়েট মার্কেটিং অনেক জনপ্রিয় একটি উপায়। আপনি চাইলে হতে পারেন এফিলিয়েট মার্কেটার। কেন এফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন তার কয়েকটি কারণ আমি এখানে উল্লেখ করছি। এই কারণগুলো পড়লে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন আপনার এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করা দরকার কি, না?

  1. খুব সাধারণ বিজনেসঃ আপনাকে প্রথমেই মনে রাখা দরকার এফিলিয়েট মার্কেটিং এক প্রকার বিজনেস। তবে এটি খুবই সাধারণ একটা বিজনেস। কারণ এই বিজনেস শুরু করার জন্য আপনাকে অনেক দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পনা করার দরকার নাই। মাত্র ১০ মিনিটের পরিকল্পনাতেই আপনি এই বিজনেস শুরু করে দিতে পারবেন। তবে যেহুতু এই বিজনেসের মূলমন্ত্র হলো ট্রাফিক তাই ট্রাফিক জেনারেট করার জন্য আপনাকে অনেক রিসার্চ করতে হবে। কাস্টমারের চাহিদা নিয়েও আপনাকে অনেক রিসার্চ করতে হবে। লোকেরা কেমন পণ্য খুজছে, কেমন তাদের রুচি ইত্যাদি বিষয়গুলো আপনাকে জেনে নিতে হবে। এসব খুটি নাটি বিষয়গুলি যদি আপনি জেনে নিতে পারেন তাহলে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আপনি  খুব দ্রুতই সফলতা পাবেন।
  2. নিজের পণ্য এবং ফিজিকাল অফিসের প্রয়োজন নাইঃ এফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য আপনার নিজের কোন কিনে কাস্টমারের কাছে বিক্রি করার দরকার হয় না এজন্য আপনার নিজের কোনা দোকার অথবা অফিসেরও দরকার পড়ে না। ধরেন আপনি যদি অ্যামাজান এর ওয়েবসাইটের পণ্যগুলি নিয়ে মার্কেটিং করেন তাহলে অ্যামাজনে থাকা হাজার হাজার পণ্য আপনার ওয়েবসাইটের মধ্যে যুক্ত করার মাধ্যমে ব্যবসা করার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে আপনি অ্যাামাজানে থাকা সব পণ্য নিয়েই এফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন না। আপনি করবেন নির্দিষ্ট নিশের কিছু প্রডাক্ট নিয়ে। তাহলে দ্রুতই সফল হতে পারবেন।
  3. বিনে চালানের অথবা স্বল্প চালানের ব্যবসাঃ যেকোন ব্যবসা করতে গেলে দরকার পড়ে মূলধন। কিন্তু আপনি কোন প্রকার টাকা খরচ না করেই এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে পারেন। এবং এখান থেকে ইনকামও করে নিতে পারেন। তবে একাবের ফ্রিতে সব কিছু করতে গেলে আপনার অনেক অনেক সময় ব্যয়। অনেক সময় কাঙ্খিত ফলাফল পাবেন না। ফ্রিতে ওয়েবসাইট বানাতে গেলে ইচ্ছামত ডিজাইন, ফাংশানালিটি যুক্ত করতে পারবেন না। ইচ্ছামত seo করতে পারবেন না। এজন্য আপনি দ্রুত ভাল ফলাফলের জন্য কিছু টাকা খরচ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
  4. আজীবন নিশ্চিত ব্যবসা করার সুবিধাঃ পৃথিবীতে এমন ব্যবসা খুব কমই আছে যেখানে আপনি আজীবন ব্যবসা করার সুবিধা পাবেন। যে কোন কারণে অথবা যেকোন পরিস্থিতে আপনার ব্যবসা লস হতে পারে, ব্যবসা বন্ধ হতে পারে। আর এফিলিয়েট মার্কেটিং যেহুতু আপনি একাধিক কোম্পানির সাথে করছেন কাজেই এই রিস্ক নাই। এক কোম্পানি বন্ধ হলে আরেক কোম্পানির সাথে কাজ করার সুযোগ থাকছে। এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে ব্যবসা দাড় করানো অনেক কষ্টসাধ্য তবে এটা বিশ্বাস করুন যদি পরিশ্রম করে এবং সময় দিয়ে এখানে একটি ব্যবসা দাড় করিয়ে ফেলতে পারেন তবে আর ইনকাম নিয়ে আর ভাবতে হবে না। একটা সময় পরে আপনাকে আর কাজ না করলেও আপনার ইনকাম বন্ধ হবে না।
  5. ইচ্ছামত পণ্য নিয়ে বিজনেস করার সুবিধাঃ আপনার ইচ্ছামত যেকোন পণ্য নিয়ে বিজনেস শুরু করতে পারেন আবার যেকোন সময়ে পণ্যের ক্যাটাগরি পরিবর্তন করে অন্য পণ্য নিয়ে কাজ করতে পারেন। এই সুবিধা কেবলমাত্র এফিলিয়েট মার্কেটিংএই পাবেন। এতসব সুবিধার কারণে এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতেই পারেন।
  6. আনলিমিটেড ইনকাম করার সুবিধাঃ এখানে আপনি কত ইনকাম করতে পারবেন তার নির্দিষ্ট কোন হিসাব নাই। আপনার ওয়েবসাইটে যত বেশি ট্রাফিক থাকবে এবং আপনার এফিলিয়েট লিঙ্ক যত বেশি মানুষের কাছে পৌছাতে পারবেন আপনার ঠিক তত বেশি ইনকাম হবে।
  7. বিশ্বজুড়ে ব্যবসা করার সুবিধাঃ এফিলিয়েট মার্কেটিং এমন একটা বিজনেস যার কোন ভৌগলিক সীমারেখা নাই। আপনি সারা বিশ্বজুড়ে আপনার পণ্য প্রমোট করতে পারবেন। তবে আপনাকে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে আপনি যে কোম্পানির প্রডাক্ট প্রমোট করছেন তারা যদি নির্দিষ্ট কোন দেশে প্রডাক্ট বিক্রি না করে তাহলে আপনি সেই দেশে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন না।

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর অসুবিধা

প্রত্যকটা বিষয়েরই সুবিধার পাশাপাশি বেশ কিছু অসুবিধাও রয়েছে। তেমনি এফিলিয়েট মার্কেটিং এর নানাবিধ সুবিধার পাশাপাশি বেশ কিছু অসুবিধাও রয়েছে। এখানে এফিলিয়েট মার্কেটিং এর অসুবিধাগুলো তুলে ধরা হলো।

  • অনিশ্চিত যাত্রাঃ ফ্রিল্যান্সিং করে বেশ ভাল পরিমানে আয় করা যায়, বেশ ভাল একটা স্মার্ট লাইফ গঠন করা যায় একথা মিথ্যা নয়। আমাদেশের অনেক মানুষই এখন এর জলন্ত উদাহরণ। কিন্তু ফ্রিল্যান্সির করে সফলতা পেতে কতটা কাঠ খড় পুড়িয়ে একটা প্লাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ানো যায় সেটা একমাত্র যে সফল হয়েছে সেই বলতে পারবে। ফ্রিল্যান্সিং এর প্রথম জার্নিটা অনিশ্চিত যাত্রার মত। আপনি কতটা শেখার পরে, কতটা সময় পরে, কতটা পথ হাটার পরে সফলতা পাবেন এটা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবে না। তবে লেগে থাকলে সফলতা আসেই। কিন্তু এই লেগে থাকার জার্নিতে ৯০% মানুষ শুরুতে, মাঝপথে এসে অধৈর্য্য হয়ে লাইনচ্যুত হয়ে যায়। যার ফলে এতদিন যা কিছু শিখেছে এবং সময় ব্যয় করেছে সবই বৃথা যায়।
  • আয়ের জন্য নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করাঃ এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় পেতে আপনাকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে। সেই নির্দিষ্ট সময়টা যে কতটা সময় তা কেউ নির্দিষ্ট করে বলতে পারবে না। কারণ আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটে, ইউটিউব চ্যানেলে, ফেসবুকে প্রচুর জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব পরিণত হতে হবে এবং প্রচুর লোকের সমাগম ঘটাতে হবে। আর এই কাজগুলো আপনাকে অনেক ধৈর্য্য নিয়ে করতে হবে। এজন্য এখানে অপেক্ষার কোন বিকল্প নাই। আর এই অপেক্ষা সত্যিই বিরক্তিকর।
  • আয়ের কোন নিশ্চয়তা নাইঃ এখানে যেমন আনলিমিটেড আয় করার নিশ্চয়তা আছে। ঠিক তেমনি একটা টাকাও আয় করতে পারবেন এমন কোন নিশ্চয়তা নাই। আপনি প্রমোশন করলেন, শেয়ার করলেন, মার্কেটিং করলেন। যেখানে যা করার দরকার সব কিছুই করলেন কিন্তু লোকেরা আপনার দেয়া এফিলিয়েট লিঙ্ক ক্লিক করে কোন প্রডাক্ট কিনলে না। কেউ স্বেচ্ছায় না কিনলে আপনি তাদের বাধ্য করতে পারবেন না। ফলাফল হলো আপনার একটি টাকাও ইনকাম হবে না।

সেরা ১০টি অ্যাফিয়েট প্রগ্রাম ( এফিলিয়েট মার্কেটিং সাইট )

সারাবিশ্বে এখন ছোট বড় প্রায় সব কোম্পানিগুলোই তাদের পণ্য প্রচার প্রসার এবং বিক্রি করার জন্য এফিলিয়েট মার্কেটারদের উপর নির্ভর করে থাকে। আর এই এফিলিয়েট মার্কেটার এবং কোম্পানিগুলোর মাঝে মিডিয়া হিসেবে কাজ করে এফিলিয়েট প্রগ্রামগুলো। মূল কথা হলো ক্রেতা এবং বিক্রেতার মাঝে মধ্যস্তাকারী হিসেবে কাজ করে এফিলিয়েট প্রগ্রামগুলো।

আর এই এফিলেয়ট মার্কেটিং করার জন্য সারা বিশ্বে অনেক অনেক কোম্পানি আছে। এর মধ্যে কিছু কিছু কোম্পানি আছে খুবই জনপ্রিয় এবং খুবই ভালো। যাদের প্রচুর পরিমানে প্রডাক্ট আছে এবং তারা এফিলিয়েট মার্কেটারদের প্রচুর পরিমানে পেমেন্ট করে থাকে। আমি এমনই কিছু ভাল মানের কোম্পানির নাম উল্লেখ করছি।

    • ShareASale Affiliates
    • Solvid Affiliate
    • Amazon Associates
    • eBay Partners
    • Shopify Affiliate Program
    • Clickbank
    • Rakuten Marketing Affiliates
    • Leadpages Partner Program
    • JotForm Affiliate Program
    • CJ Affiliate Publisher’s Program

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে কি আসলেই আয় করা যায়?

এফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করা যায়। তবে এখানে কথা আছে – আয় করার জন্য অবশ্যই আপনাকে অনেক অনেক সময় নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে যেতে হবে, সঠিক উপায়ে মার্কেটিংয়ের কলা কৌশলগুলো রপ্ত করে নিতে হবে। ধৈর্য্য ধরে যদি কাজ করে যেতে পারেন তাহলে একসময় সাফল্য আপনায় পায়ে কাছে এসে গড়াগড়ি খাবে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং করে সফল হওয়ার জন্য আপনাকে বেশ কিছু টেকনিক অবলম্বন করতে হবে। প্রডাক্ট বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আপনাকে মাথায় রাখতে হবে কোন জিনিশগুলো মানুষ অনালাইনে কিনতে সাচ্ছন্দবোধ করে। কোন জিনিশগুলোর অনলাইনে প্রচুর পরিমানে চাহিদা আছে। ঐ সকল প্রডাক্ট নিয়ে কাজ করলে আপনি খুব সহজেই সফল হতে পারবেন। আরেকটি বিষয় হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট ইংরেজিতে হলে এবং বাইরের দেশের লোকদের টার্গেট করে লিখলে ভাল হয়। কারণ বাংলা কন্টেন্টের ওয়েবসাইটগুলো কেবল বাংলাদেশ এবং ভারত থেকে ভিউ হয়। কিন্তু আমাদের দেশে এখনো অনলাইনে কেনা কাটার সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। একারণে বাংলায় লিখিত ওয়েবসাইট দিয়ে আপনি খুব বেশি লাভবান হতে পারবেন না।

ইংরেজিতে ভাল মানের আর্টিকেল লিখে সঠিক নিয়মে SEO করতে পারলে আপনি খুব সহজেই সফল হতে পারবেন। এবং এফিলিয়েট মার্কেটিং করে অবশ্যই টাকা আয় করতে পারবেন। বিশ্বের হাজার হাজার মানুষ এভাবেই টাকা ইনকাম করছে। চেষ্টা করলে আপনি তাদের একজন হতে পারবেন।

উপসংহার

আশা করি এফিলিয়েট মার্কেটিং অথবা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা পেয়েছেন। আপনি যদি আসলেই এই ব্যাপারে ইন্টারেস্টেড হয়ে থাকেন তাহলে উপরের দেওয়া নিয়ম ফলো করে কাজ শুরু করে দিন। তবে সব কথার শেষ কথা হলো আপনি এফিলিয়েট করেন আর যাই করেন আপনাকে অনেক অনেক শিখতে হবে। ধৈর্য্য ধরতে হবে। লেগে থাকতে হবে তাহলেই আপনি সফল হতে পারবেন। পরিশ্রম ব্যতীত আপনি সফলতা পাবেন না।

Facebook Comments

This Post Has 2 Comments

  1. Nasim

    অসাধারণ

Leave a Reply